
সাতক্ষীরা সদরে আশুর নির্বাচনী প্রচারণায় উঠে আসছে ১০ বছরের লুটপাটের চিত্র
মোঃ হাফিজ বিশেষ প্রতিনিধি সাতক্ষীরাঃ
গত দশ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরা হচ্ছে নির্বাচনী জনসভায়। জনতার দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভুত ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে প্রচারণার মঞ্চে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, স্বাস্থ্য বিভাগে দুর্নীতি, ভোমরা বন্দরে দুর্নীতি, নদী ও খাল খননে দুর্নীতি, যাতায়াত যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্নীতি সহ বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে খারায় মাছ ধোয়ার মতো করে ধোলাই করছেন নেতারা। দুর্নীতিবাজ ‘চাকরের’ মুখ আর সাতক্ষীরাবাসি দেখতে চায় না বলে বক্তব্য দিতে শোনা যাচ্ছে। গলাবাজি, চাপাবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর তোলাবাজিতে ওস্তাদ জনগণের চাকরকে নিয়ে গ্রাম-গঞ্জে চলছে তুমুল আলোচনা। গ্রামের মানুষ এখন আর চাকরের কথা শুনতে চায় না।
সাতক্ষীরা সদর আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী আশরাফুজ্জামান আশুর নির্বাচনী প্রচারণায় উঠে আসছে গত ১০ বছরে সাতক্ষীরা সদরে দুর্নীতি অনিয়ম আর মানুষকে অসম্মান অপদস্তের চিত্র। শেখ হাসিনার সরকার ১০ বছরে যা দিয়েছে তার সঠিকভাবে কাজ হলে আজ সাতক্ষীরার কোন রাস্তা-ঘাটে খানাখন্দ থাকার কথা না। সাতক্ষীরার উন্নয়ন অনেক বেশি দৃশ্যমান হতে পারতো। রেললাইন, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন হতো। কিন্তু কাজ করার চেয়ে লুটপাট করে গিলে খাওয়ার কারণে সাতক্ষীরা এখন পিছিয়ে পড়া একটি জেলায় পরিণত হয়েছে। যাকে তাকে বাস্টার্ড-ব্লাডি-রাজাকার গালি দিয়ে সম্মানিত মানুষকে অসম্মানিত করে মেধাবী রাজনীতিকদের ঘরে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতের এসব বিষয় উঠে আসছে নির্বাচনী প্রচারণায়।
প্রচারণায় উঠে আসছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মেয়াদে সাতক্ষীরায় মেডিকেল কলেজ হয়েছে, বাইপাস সড়ক হয়েছে, আরও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তখন এমপি ছিলেন এমএ জব্বার। সেই সময়ের প্রকল্পে সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪৭৫ কোটি টাকা এসেছে। কাগজে কলমে কাজও প্রায় শেষ। কিন্তু সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি। এমনকি কোথায় কাজ হয়েছে, তা এখন আর কেউ খুঁজেও পাবেন না।
লাঙ্গলের প্রার্থী আশরাফুজ্জামান আশুর প্রচারণায় উঠে আসছে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মেধাবীদের শিক্ষক-কর্মচারি হিসেবে যোগদানের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। আবার টাকা দিয়ে অনেকে চাকরি না পেয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। ফিংড়ির নিমাই নামক এক ব্যক্তি ছেলের চাকরির জন্য উপার্জনের একমাত্র সম্বল গরু বিক্রি করে টাকা দিয়ে চাকরি না পেয়ে স্ট্রোকে আক্রান্তের পর নিজের চাকরি খুইয়ে চিকিৎসা অভাবে মারা যাওয়ার ঘটনা।
প্রচারণায় উঠে আসছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও সেখানে মানুষের সুচিকিৎসা পাওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়ার বিভিন্ন কারণ। ডা. আ. ফ. ম. রুহুল হকের প্রচেষ্টায় এবং এমএ জব্বারের সহায়তায় সাতক্ষীরাবাসীর স্বপ্নের এই মেডিকেল কলেজ কীভাবে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে তার বর্ণনা।
টাকা দিয়ে অবৈধ উপায়ে চাকরি পেয়ে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের শিক্ষকদের জেলখাটার বিষয়গুলোও বাদ যাচ্ছে না প্রচার প্রচারণায়।
ভোমরা স্থল বন্দরের বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ করে সেখানে পদ বানিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরে একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, তাকে পদ থেকে সরাতে মন্ত্রণালয়-রাজস্ব বোর্ড-কাস্টমসে যতবার গিয়েছেন তার চেয়ে কম চেষ্টায় ভোমরা স্থল বন্দরকে দেশের সবচেয়ে বড় বন্দরে পরিণত করা সম্ভব হতো। কর্মকর্তা কর্মচারীরা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভোমরা স্থল বন্দরে ব্যবসায়ীদের অঘোষিত বৈধ সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ভোমরা বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছেন। আমদানী রপ্তানী হ্রাস পেয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলছেন, সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। আর সাতক্ষীরা সদরের মানুষ পানিতে ডুবছে। সারাদেশ ইউরোপ-আমেরিকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে, আর সাতক্ষীরার মানুষ সেই মান্ধাত্বার আমলের রাস্তাঘাটে চলাচল করছে।
বক্তারা আরও বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ বছরের আমলনামা পর্যালোচনা করে সাতক্ষীরা সদর আসনে নৌকার মাঝি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির মনোনয়ন দেননি। মনোনয়ন দিয়েছেন জনপ্রিয় তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবুকে। কিন্তু কৌশলগত কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফুজ্জামান আশুর সমর্থনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তুলে ধরছেন গত ১০ বছরে তাদেরকে কী ভাবে অপমান অপদস্ত করা হয়েছে। চেলা চামচাদের আচার আচারণও তুলে ধরছেন।
বক্তব্যে উঠে আসছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবকে সাংবাদিক শূন্য করে অসাংবাদিক দিয়ে ভরে ফেলার কথা। আইনজীবী সমিতির নির্বাচন না দিয়ে আজ্ঞাবাহ লোকজন দিয়ে পরিচালনার কথা। চেম্বার, পাবলিক লাইব্রেরী, ট্রাক মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচন বন্ধ করে এসব প্রতিষ্ঠান দুর্বল করে ফেলার নানান তথ্য।
Like this:
Like Loading...