1. admin@dailydhakarcrime.com : admin :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে ‌এক অসহায় মা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী ও শাশুড়ি মিলে বা*চ্চাকে টিকা দেওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে এক লাখ টাকায় বিক্রি টঙ্গীতে ২৬ টি চোরাই মোবাইল সহ এক যুবককে আটক করেছে ডিবি পুলিশ রোটারি ক্লাব অব উত্তরা লেক ভিউ’র উদ্যোগে এবং তামিশনা গ্রুপ ও উত্তরা ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন এর সার্বিক সহযোগীতায় যৌথ ভাবে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ: সহকারী ফয়সালকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ সিন্ডিকেট, বাড়ছে জনক্ষোভ গাজীপুরের গাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল হামিদ খান ইন্তেকাল করেছেন। হাকিমপুর থানা পুলিশ কর্তৃক মাদক সহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার-৯ চাকরির নামে প্রতারণা, উত্তরায় ‘মিলেনিয়াম সিকিউরিটি সার্ভিস’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বপন ও হৃদয় এর বিরুদ্ধে টঙ্গীর জাভান হোটেলে হামলা, ‘ককটেল সদৃশ’ বিস্ফোরণে আতঙ্ক মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের খোঁজ নিলেন লাখাই উপজেলা ছাত্রদল নেতা পলাশ তালুকদার।

সাতক্ষীরার আশাশুনির সড়কে লাল বাহিনীর কবলে পড়ে প্রাণ গেলো এক শিশুর

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩৪৯ বার দেখা হয়েছে
সাতক্ষীরার আশাশুনির সড়কে লাল বাহিনীর কবলে পড়ে প্রাণ গেলো এক শিশুর
মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কে লাল বাহিনীর কবলে পড়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে প্রীতম সানা নামের এক শিশুকে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের চাঁদপুর সংলগ্ন জনৈক সাত্তারের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আট মাস বয়সী প্রীতমসানা আশাশুনি উপজেলার আরার দাসপাড়া এলাকার বিকাশ সানার ছেলে। এঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই এলাকায়।
জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু প্রীতম সানাকে নিয়ে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে যাচ্ছিলেন তার স্বজনরা। এ সময় লাল বাহিনী তাদের গতিরোধ করে। ইজিবাইকে করে সাতক্ষীরা শহরে যাওয়া যাবে না জানিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় শিশুটি সহ তার পরিবারের সদস্যদের। এ সময় প্রীতম সানার অসুস্থতার কথা বললেও মনগলেনি লাল বাহিনীর সদস্যদের। এক পর্যায়ে এই সড়ক দিয়ে যেতে হলে চাঁদা দেওয়ার কথা বলেন লাল বাহিনীর সদস্যরা৷ তবে ওই সময় বাড়তি কোন অর্থ না থাকাতে চাঁদার টাকা দিতে ব্যর্থ হন পরিবারটি। উপায়ন্তর না পেয়ে উল্টো পথে ২০ কিলোমিটার ঘুরে সাতক্ষীরা মেডিকেলে শিশুটিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,বিগত কয়েক বছর ধরে সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের চাঁদপুরের সাত্তারের মোড় সহ বেশ কিছু জায়গাতে থ্রি-হুইলার গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা দাবি করে কিছু লোকজন। স্থানীয়দের কাছে তারা লাল বাহিনী নামে পরিচিত। এদের কাছে লাল রঙের ছোট ছোট পতাকা থাকে।এলাকাবাসীর অভিযোগ,এই লাল বাহিনীকে নিয়ন্ত্রন করেন ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী।
মূলত,বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে মিজান চৌধুরী চেয়ারম্যান হিসেবে জয়লাভ করার পর থেকে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে লাল বাহিনী। বর্তমানে সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কে চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীর বাস যাতায়াত করাতে এই সড়ক দিয়ে তিন চাকার থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, মহেন্দ্র, গ্রাম বাংলা) চলতে দেননা তিনি। যারা এই সড়ক দিয়ে থ্রি-হুইলার চালান তাদেরকে প্রথমে আটকে দেওয়া হয়। এ সময় যদি কোন বাস সেখানে থাকে তাহলে তাদের যাত্রীগুলো নামিয়ে ওই বাসে তুলে দেয় লাল বাহিনীর লোকজন। অন্যথায় টাকা দিলে থ্রি-হুইলার গাড়ি গুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে নিহত প্রীতম সানার গ্রামের বাড়িতে যেয়ে দেখা যায়,এক মাত্র শিশু সন্তানকে হারিয়ে বাকুল হয়ে পড়েছেন শিশুটির পিতামাতা। শোকে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। প্রীতম সানার বাড়িতে শত শত মানুষের ভীড় থাকলেও তাদের আহাজারি কান্নায় ভেঙে পড়ছেন উপস্থিত মানুষেরাও।
শিশুটির মা বন্দনা সানা,বাবা বিকাশ সানা, দাদি অঞ্জলী সানা জানান,ঘটনার কয়েক দিন আগে থাকতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন প্রীতম সানা। তবে অর্থ-অভাবে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে ওই দিন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় অল্প কিছু টাকা নিয়ে ইজিবাইকে করে সাতক্ষীরা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। পথি মধ্যে চাঁদপুরের সাত্তারের মোড়ে পৌঁছানো মাত্র লাল বাহিনীর সদস্যরা আমাদের ঘিরে ধরে। তারা আমাদের বহনকৃত ইজিবাইক থেকে আমাদের নামিয়ে দেয়। এবং বাসে করে সাতক্ষীরা যেতে বলে।
তারা বলেন,আমরা তাদেরকে (লাল বাহিনী) প্রীতমের অসুস্থতার কথা বললেও তাদের মন গলেনি। বরং অকথ্য ভাষা ব্যবহার করতে থাকে আমাদের সাথে। এক পর্যায়ে তারা চাঁদার টাকা দাবি করে। তবে প্রীতমের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় টাকা ছিল না বিধায় আমরা চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি। এ জন্য তারা আমাদের উল্টো পথে ২০ কিলোমিটার ঘুরে সাতক্ষীরা মেডিকেলে আসতে বাধ্য করে। এসময় মেডিকেলে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রীতম সানাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে তারা বলেন, মিনিট ত্রিশ আগে প্রীতমকে হাসপাতালে নিতে পারলে সে হয় তো বেঁচে থাকতো। এমনটায় ডাক্তার আমাদেরকে বলে। আজ যদি লাল বাহিনী তাদের বাঁধা না দিতো তাহলে হয়তো প্রীতম বেঁচে থাকতো জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। আর এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং আর যাতে কাউকে লাল বাহিনীর কবলে পড়ে প্রাণ হারাতে না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রীতম সানার পরিবারের সদস্যরা।
তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু ৮ মাসের শিশু প্রীতম সানাই নয়, লাল বাহিনীর অত্যাচারের বলি হয়েছেন আরও অনেকে।
আরার দাসপাড়া এলাকার স্থানীয় লীলা রানী দাস অভিযোগ করে বলেন,গত বছর তার পুত্র বধূকেও সন্তান জন্মদানের আগে তাদের বহনকারী ইজিবাইকটিকে বাঁধা দিয়েছিলো মিজান চৌধুরীর এই লাল বাহিনী। হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছানোর পর আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখা যায় তার দুটি সন্তানের একটি মারা গেছে। তার দাবি,লাল বাহিনীর কবলে পড়ে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে।তবে মিজান চৌধুরীর ভয়ে তাহারা সহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান সবাই।
এ ব্যাপারে একাধিক থ্রি-হুইলার গাড়ির চালকরা বলেন, সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কে এক আতঙ্কের নাম লাল বাহিনী। যে বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী। এই রোডে তার চলাচলকৃত বাসের ভাড়া কম হবে বিধায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে কোন থ্রি-হুইলার গাড়ি চলাচল করতে দেন না তিনি।এ জন্য তিনি এই সড়কের কয়েক স্তরে লাল বাহিনীর চেকপোস্ট বসান। যে চেক পোস্টে যাত্রী নামিয়ে নেয়া সহ চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,মিজান চৌধুরী ক্ষমতাশালী হওয়াতে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেন না। যখনই তার এ সমস্ত কর্মের প্রতিবাদ করা হয় তখন তিনি তার ক্ষমতা বলে তাদেরকে নানা ভাবে হয় রানী করেন। এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে লাল বাহিনীর কবলে পড়ে আর যাতে কারও প্রাণহানি না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছু দিন আগে সাতক্ষীরাতে যোগদান করেছেন তিনি। এজন্য লাল বাহিনী সম্পর্কে অবগত নন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। মানবিক দিক থেকে অসুস্থ মানুষের সেবায় সবার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। তবে এ ঘটনা সর্বোচ্চ আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আশ্বত করেন, সাতক্ষীরা সড়কে কোন বাহিনী থাকবে না। সড়ক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পদক্ষেপ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 ঢাকার ক্রাইম
প্রযুক্তি সহায়তায় রিহোস্ট বিডি