
মহিলা দলে আ.লীগ পুনর্বাসন ও মাদক কারবারি: রুনা লায়লার বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ — আওয়ামী লীগের সাবেক কর্মীদের দলে পুনর্বাসন, মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টন। এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেছেন তেজগাঁও থানা মহিলা দলের সাবেক সদস্যসচিব শাহানা আক্তার।
*অর্থের বিনিময়ে পদ, বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা*
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে শাহানা আক্তার অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে কমিটি থেকে স্থগিত করা হয়। পরে জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, তেজগাঁও থানা মহিলা দলের সভাপতি পদে তাঁকে বিবেচনা করা হয়েছিল — তবে এর জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।
শাহানা আক্তার জানান, এ বিষয়ে রুনা লায়লা সরাসরি তাঁকে বলেন — “আমরা এমনি এমনি এখানে বসি নাই, এই জায়গায় আসতে আমাদেরও টাকা দিতে হয়েছে।”
দীর্ঘদিন রাজনীতি করার পরও অর্থের বিনিময়ে পদ পাওয়ার এই প্রস্তাব তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছে বলে জানান শাহানা।
কমিটিতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী
শাহানা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে বাদ দিয়ে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কমিটির সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পাওয়া লাবনী আক্তার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং তাঁর ভাই মাদক সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত বলেও দাবি করেন তিনি।
*আ.লীগ ঘরানার ব্যক্তি কমিটিতে*
এছাড়া বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবিনা আক্তার ইভা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন শাহানা।
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “যাঁরা দীর্ঘ ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং অর্থের ভিত্তিতে পদ বণ্টন করা হয়েছে। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
**বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ**
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টন এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্তি দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।