নিজস্ব প্রতিবেদক
সাভার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। অভিযোগের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে ওমেদার পলাশ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ, যাকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কার্যালয়ের ভেতরে জমি নিবন্ধন কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন ওমেদার পলাশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কিছু নির্দিষ্ট চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে দলিল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছেন।
‘টেবিল মানি’ ও দালাল চক্রের অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ‘টেবিল মানি’ দিতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট দালালদের মাধ্যমে কাজ না করালে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রমে ওমেদার পলাশকে ঘিরে একটি মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দলিল জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির শ্রেণী পরিবর্তন, ভুয়া দাতা ব্যবহার করে দলিল সম্পাদন, রাজস্ব ফাঁকি এবং দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় নিয়ে প্রশ্ন!!
অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয়। যেখানে অফিসের কিছু কর্মচারী ও বহিরাগত দালালদের পাশাপাশি ওমেদার পলাশের নামও আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের কারণে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ
অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিলামালিয়া মৌজা ও বড়বরদেশী মৌজার সিলিকন সিটি এলাকার জমি রেজিস্ট্রেশন ও মিউটেশনের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র তাদের কাছে পৌঁছেনি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ওমেদার পলাশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তের দাবি!!
স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট চক্র—বিশেষ করে ওমেদার পলাশকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তা না হলে জমি নিবন্ধন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







