
রাজপথের আপসহীন নেত্রী সংরক্ষিত নারী এমপি পদে আলোচনায় শীর্ষে শাহিনুর আক্তার স্মৃতি।
আবুল বাশার পলাশঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে জপথের আপসহীন লড়াই আর ত্যাগের এক মূর্ত প্রতীক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহিনুর আক্তার স্মৃতি। ত্যাগী এই নেত্রীকে আগামীতে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্থরের নেতাকর্মীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনেও মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন একাধিক নারীনেত্রী। এই জেলা থেকে কে হবেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য, শেষ পর্যন্ত কে বিএনপির মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে মনোনয়নের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন শাহিনুর আক্তার স্মৃতি। বিগত সময়ে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।
শাহিনুর আক্তার স্মৃতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের মুর্শিদ মিয়া ও হালিমা খাতুন দম্পত্তির সন্তান। তিনি ১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালে রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর ২০০২ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০০৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স, একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে এমএসসি এবং ২০১৮ সালে সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন।
ছাত্রদলের মাধ্যমে শাহিনুর আক্তার স্মৃতির রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদল নেত্রী ছিলেন। তাছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা এবং সেন্ট্রাল ল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। জাতীয়বাদী আইন ছাত্র ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজপথের পরীক্ষিত নেত্রী শাহিনুর আক্তার স্মৃতি রাজনীতির কারণে ঢাকার রমনা ৫(১)১৫ মামলায় ৪৫ দিন কারাগারে ছিলেন।
রাজপথের পরীক্ষিত এই নেত্রী তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বিএনপি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাবাসীর প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে থাকা সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক গুণাবলির অধিকারী শাহিনুর আক্তার স্মৃতিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়।
পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে মানবসেবার শিক্ষা দিয়েছে, আর সময় তাকে শিখিয়েছে সাহস ও দায়িত্ববোধ। স্বৈরাচারী সময়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। অন্যায়, দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। সত্যের পক্ষে কথা বলার কারণে তিনি হয়েছেন মামলা, হামলা ও সামাজিক নিপীড়নের শিকার। বারবার ভয় দেখানো হয়েছে, তবুও তিনি থেমে যাননি। মামলা, ভয়ভীতি ও নিপীড়নের মুখেও পিছু হটেননি। পুলিশি তল্লাশি, নজরদারি সহ সবকিছুর মাঝেও তিনি আশ্রয় দিয়েছেন নেতাকর্মীদের।
ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে উঠে এসে মানুষের অধিকার, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মানবতা, সাহসিকতা ও ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। শাহিনুর আক্তার স্মৃতি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নারী উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন।শাহিনুর আক্তার স্মৃতি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে নিরলসভাবে কাজ করেছি, ভূমিকা রেখেছি তৃণমূল পর্যায়ে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে। আমার দলের প্রতি আস্থা রেখে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। সক্রিয় রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ, সমাজসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার অংশ হিসেবেই আমি দলীয় মনোনয়ন চাই। সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকতে চাই। জাতীয়তাবাদী আদর্শ নিয়ে কাজ করে চলেছি। আমি চাই সবসময় মানুষের পাশে থেকে জনগণের সেবা করতে।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সব আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। তাই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। আমার বিশ্বাস, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিবেন। আশা করি দল আমার বিগত দিনের কর্মকান্ডের বিবেচনায় আমাকে মনোনিত করবে বলে প্রত্যাশা করছি।