1. admin@dailydhakarcrime.com : admin :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে ‌এক অসহায় মা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী ও শাশুড়ি মিলে বা*চ্চাকে টিকা দেওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে এক লাখ টাকায় বিক্রি টঙ্গীতে ২৬ টি চোরাই মোবাইল সহ এক যুবককে আটক করেছে ডিবি পুলিশ রোটারি ক্লাব অব উত্তরা লেক ভিউ’র উদ্যোগে এবং তামিশনা গ্রুপ ও উত্তরা ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন এর সার্বিক সহযোগীতায় যৌথ ভাবে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ: সহকারী ফয়সালকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ সিন্ডিকেট, বাড়ছে জনক্ষোভ গাজীপুরের গাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল হামিদ খান ইন্তেকাল করেছেন। হাকিমপুর থানা পুলিশ কর্তৃক মাদক সহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার-৯ চাকরির নামে প্রতারণা, উত্তরায় ‘মিলেনিয়াম সিকিউরিটি সার্ভিস’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বপন ও হৃদয় এর বিরুদ্ধে টঙ্গীর জাভান হোটেলে হামলা, ‘ককটেল সদৃশ’ বিস্ফোরণে আতঙ্ক মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের খোঁজ নিলেন লাখাই উপজেলা ছাত্রদল নেতা পলাশ তালুকদার।

রাজধানীতে চলছে মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য। এর মধ্যে অন্যতম রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩২২ বার দেখা হয়েছে

কাউসার আহমেদ পনির:

রাজধানীতে চলছে মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য। এর মধ্যে অন্যতম রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা। যাত্রাবাড়ী থানার বিখ্যাত মাদকের ডিলার মাসুম সম্প্রতি ডিবির হাতে ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়েছে। এ বিষয়ে মাসুম বলেন, এ দেশে যার টাকা আছে তার সব আছে। টাকা দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের সুশীল প্রতিনিধি ও প্রশাসনকে কেনা খুবই সহজ।

মাসুম আরও বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ নেতা, হাসিনা আপা পালিয়েছে কিন্তু আমি পালাবো না। কারণ আমাকে বর্তমানে আশ্রয় দিচ্ছে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল ওরফে ‘টুন্ডা বাদল’। আমি জেলে গেলে আমাকে মোটা অঙ্কের টাকার মাধ্যমে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন তারাই। আমি যে মাদক ব্যবসা করি এটা আসলেই সত্য। আপনারা সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকাতেই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ দেখতে পারবেন। তারা আমার বিরুদ্ধে নানা সময় নানা ভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে। অথচ আমার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি আর ভবিষ্যতেও পারবে না। আমি আজ যেমন মাদক ব্যবসা করছি ভবিষ্যতেও করবো। আমার মাল ও বিক্রেতা ধরা পড়েছে কিন্তু ছাড়িয়ে আনছে বিএনপি নেতারা।”

যাত্রাবাড়ী থানার পূর্ব ১০ নম্বর ওয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের জন্য কুখ্যাত এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাসুম দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু নেতার ছায়ায় থেকে মাসুম সিটি পল্লীতে মাদকের বড় পাইকারি বাজার গড়ে তোলে। বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর কিছু বিএনপির অসাধু নেতাদের সহায়তায় মাসুমের মাদক ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে।

এ কাজে সহযোগিতা করছেন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল ওরফে ‘টুন্ডা বাদল’। গত ৮ আগস্ট রাত ১১টার দিকে এলাকাবাসী মাসুমের ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে ২,০২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বাদল ওই মাদক ও আটক ব্যক্তিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, “২০০০ পিস নয়, ১০০০ পিস ইয়াবা আমার কাছে আছে।” তখন সাংবাদিকরা বললেন, “১০০০ নয়, ২০২০ পিস ইয়াবাই আপনার কাছে আছে।” উত্তরে সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, “১০০০ বা ৫০০০ ইয়াবা আমার কাছে আছে, আগামীকাল সাংগঠনিকভাবে বিচার হবে।” মাদক আপনার কাছে রাখতে পারেন কিনা জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, “এটা আমার এলাকার ব্যাপার, আমি এলাকা চালাই, যা হয় আগামীকাল দেখবেন।”

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টার সময় সাইফুল ইসলাম বাদল আরও কয়েকজনকে নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার এসির কাছে গিয়ে ৪৯০ পিস ইয়াবা জমা দেন। এসি ওই ইয়াবাগুলো নিজে না গুনে এসআই ফরাদকে দেখতে বলেন। অথচ কোনো নেতাই তার নিজ জিম্মায় মাদক রাখতে পারেন কিনা—বিষয়টি একবারও জানতে চাননি এসি।

পরবর্তীতে বিষয়টি ওয়ারি বিভাগের ডিসিকে জানালে তিনি বলেন, কোনোভাবেই কোনো নেতা তার নিজ জিম্মায় মাদক রাখতে পারেন না। মাদক ব্যবসায়ী ও ২০০০ পিস ইয়াবা নিজ জিম্মায় নিলেও থানায় জমা দেন মাত্র ৪৯০ পিস এবং ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়ে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বাদল।

সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ২০২০ পিস ইয়াবার আসল মালিক ১০ নং আউটফল ইউনিটের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সপন। উদ্ধারকৃত ইয়াবা বহন করেছে আবুল হোসেন, মিজান এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা গ্রহণ করেছে রাসেল।

পুলিশ কি ইয়াবা জিম্মায় রাখার অপরাধে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারতো না? উদ্ধার হলো ২০২০ পিস আর জমা হলো ৪৯০ পিস—তাহলে বাকি ইয়াবা আর মাদক ব্যবসায়ী গেল কোথায়, এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন।

এ বিষয়ে জানার জন্য সাইফুল ইসলাম বাদলের কাছে জানতে চাইলে তিনি যাত্রাবাড়ী থানার এসিকে ফোন ধরিয়ে দেন। তখন এসি বলেন, “এখনও গুনে দেখিনি, কিন্তু আমরা ২ প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছি।” বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

২০০০ পিস ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বাদল, থানায় জমা ৪৯০ পিস ইয়াবা
কাউসার আহমেদ পনির:

রাজধানীতে চলছে মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য। এর মধ্যে অন্যতম রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা। যাত্রাবাড়ী থানার বিখ্যাত মাদকের ডিলার মাসুম সম্প্রতি ডিবির হাতে ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়েছে। এ বিষয়ে মাসুম বলেন, এ দেশে যার টাকা আছে তার সব আছে। টাকা দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের সুশীল প্রতিনিধি ও প্রশাসনকে কেনা খুবই সহজ।

মাসুম আরও বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ নেতা, হাসিনা আপা পালিয়েছে কিন্তু আমি পালাবো না। কারণ আমাকে বর্তমানে আশ্রয় দিচ্ছে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল ওরফে ‘টুন্ডা বাদল’। আমি জেলে গেলে আমাকে মোটা অঙ্কের টাকার মাধ্যমে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন তারাই। আমি যে মাদক ব্যবসা করি এটা আসলেই সত্য। আপনারা সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকাতেই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ দেখতে পারবেন। তারা আমার বিরুদ্ধে নানা সময় নানা ভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে। অথচ আমার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি আর ভবিষ্যতেও পারবে না। আমি আজ যেমন মাদক ব্যবসা করছি ভবিষ্যতেও করবো। আমার মাল ও বিক্রেতা ধরা পড়েছে কিন্তু ছাড়িয়ে আনছে বিএনপি নেতারা।”

যাত্রাবাড়ী থানার পূর্ব ১০ নম্বর ওয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের জন্য কুখ্যাত এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাসুম দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু নেতার ছায়ায় থেকে মাসুম সিটি পল্লীতে মাদকের বড় পাইকারি বাজার গড়ে তোলে। বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর কিছু বিএনপির অসাধু নেতাদের সহায়তায় মাসুমের মাদক ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে।

এ কাজে সহযোগিতা করছেন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল ওরফে ‘টুন্ডা বাদল’। গত ৮ আগস্ট রাত ১১টার দিকে এলাকাবাসী মাসুমের ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে ২,০২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বাদল ওই মাদক ও আটক ব্যক্তিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, “২০০০ পিস নয়, ১০০০ পিস ইয়াবা আমার কাছে আছে।” তখন সাংবাদিকরা বললেন, “১০০০ নয়, ২০২০ পিস ইয়াবাই আপনার কাছে আছে।” উত্তরে সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, “১০০০ বা ৫০০০ ইয়াবা আমার কাছে আছে, আগামীকাল সাংগঠনিকভাবে বিচার হবে।” মাদক আপনার কাছে রাখতে পারেন কিনা জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, “এটা আমার এলাকার ব্যাপার, আমি এলাকা চালাই, যা হয় আগামীকাল দেখবেন।”

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টার সময় সাইফুল ইসলাম বাদল আরও কয়েকজনকে নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার এসির কাছে গিয়ে ৪৯০ পিস ইয়াবা জমা দেন। এসি ওই ইয়াবাগুলো নিজে না গুনে এসআই ফরাদকে দেখতে বলেন। অথচ কোনো নেতাই তার নিজ জিম্মায় মাদক রাখতে পারেন কিনা—বিষয়টি একবারও জানতে চাননি এসি।

পরবর্তীতে বিষয়টি ওয়ারি বিভাগের ডিসিকে জানালে তিনি বলেন, কোনোভাবেই কোনো নেতা তার নিজ জিম্মায় মাদক রাখতে পারেন না। মাদক ব্যবসায়ী ও ২০০০ পিস ইয়াবা নিজ জিম্মায় নিলেও থানায় জমা দেন মাত্র ৪৯০ পিস এবং ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়ে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বাদল।

সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ২০২০ পিস ইয়াবার আসল মালিক ১০ নং আউটফল ইউনিটের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সপন। উদ্ধারকৃত ইয়াবা বহন করেছে আবুল হোসেন, মিজান এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা গ্রহণ করেছে রাসেল।

পুলিশ কি ইয়াবা জিম্মায় রাখার অপরাধে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারতো না? উদ্ধার হলো ২০২০ পিস আর জমা হলো ৪৯০ পিস—তাহলে বাকি ইয়াবা আর মাদক ব্যবসায়ী গেল কোথায়, এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন।

এ বিষয়ে জানার জন্য সাইফুল ইসলাম বাদলের কাছে জানতে চাইলে তিনি যাত্রাবাড়ী থানার এসিকে ফোন ধরিয়ে দেন। তখন এসি বলেন, “এখনও গুনে দেখিনি, কিন্তু আমরা ৫ প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছি।” বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 ঢাকার ক্রাইম
প্রযুক্তি সহায়তায় রিহোস্ট বিডি