
মহোনা ঃ রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-৩ অফিসের মালিকানা বদলি শাখাকে ঘিরে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। এই শাখার মটরযান পরিদর্শক লাভলু সিকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি এবং দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে সরব ভুক্তভোগীরা।স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিআরটিএ দিয়াবাড়ী অফিসে কোনো সেবা পেতে হলে ‘নির্ধারিত নিয়মের বাইরে’ অতিরিক্ত অর্থ প্রদান যেন একপ্রকার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাভলু শিকদারকে গণমাধ্যম কর্মী জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলেন আমি এই দিয়া বাড়ি অফিসে সপ্তাহে দুই দিন বসি , আর তিনদিন আমি সচিবালয় ওখানে কাজ থাকে , আসলেই আমার কোন সুযোগ নেই কারো সাথে লেনদেন করার জন্য, বাহ কি চমৎকার তার কথাবার্তা মনে হচ্ছে ভাজা মাছটা উল্টে করে খেতে জানে না। অভিযোগ রয়েছে, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস নবায়ন কিংবা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে লাভলু সিকদারের অধীনে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা সাধারণ গ্রাহকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। শুধু তাই নয় প্রত্যেকটা ফাইলে তার একটাই আবদার ১০,০০০টাকা থেকে১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সে কোন ফাইলে সই করেন না, যখন কাজ ও তার কথার সাথে মিল রাখেন তখন সে ওয়াশরুমে গিয়ে টাকার পরিমাণটা দেখে সে কাজ পরিপূর্ণ করেন এমনটাই সরে জমিনে গিয়ে ভিডিও চিত্র ফুটেজ,সহ করে পাওয়া গেছে। অনেকেই ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরাসরি অফিসে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো, কখনো অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ঘটানো,এসব কৌশলে গ্রাহকদের দালালদের কাছে যেতে বাধ্য করা হয়। আর এই দালালদের মাধ্যমে কাজ করালে অতিরিক্ত টাকা দিলেই দ্রুত সেবা পাওয়া যায়।অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন এই শাখা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ সরাসরি লাভলু সিকদারের নিয়ন্ত্রণে যায়।একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থেকে তিনি একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যার কারণে কেউ সহজে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করছেন এবং এর বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করছেন।এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন,বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্নীতি শুধু সেবার মান নষ্ট করছে না, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে দিচ্ছে। তারা দ্রুত এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে লাভলু সিকদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি দালাল সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সেবাগ্রহীতাদের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা