
বিএলআরআই সাভারে টেন্ডারে অনিয়মঃআইনে প্রতিযোগিতা মুলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের ছত্রছায়ায় ১৭বছর ধরে চলছে হাফিজের দাপট
নিজস্ব প্রতিবেদক।
কার স্বার্থে বাংলাদেশ প্রাণী গবেষণা ইন্সটিটিউট, সাভার (বিএলআরআই,সাভার) এখনো রয়েছে ফ্যাসিবাদী যুগের সিন্ডিকেটের কবলে, কেনো নেওয়া হয়না সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় স্বচ্ছতা, উন্মুক্ততা, এবং ন্যায্যতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮-এ দরপত্রের প্রক্রিয়া, মূল্যায়ন, এবং চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে বিস্তারিত নিয়মাবলী রয়েছে, যা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করে।অথচ বিএলআরআই, সাভারের পশুখাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বিগত ১৭বছর হাফিজুর রহমান নামের একজন ঠিকাদার তার নিয়ন্ত্রাধীন ৩টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ পেয়ে আসছেন,অবস্থা দেখে মনে হয় এ কাজের জন্য তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি। আর এই একক ব্যাক্তির কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষে ২০০৭সাল থেকে উক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের গবাদিপশুর যেমন গরু,মহিষ,ছাগল,ভেড়া ইত্যাদির প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রায় ২৩/২৪টি আইটেম ভিন্ন ভিন্ন পশুখাদ্য হলেও সব গুলোকে একই লটের আওতাভুক্ত করে ঐ হাফিজুর রহমানকে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে পিপিআর২০০৮ আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হয় না। কি মধু আছে হাফিজে,,,? কেনো দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার হাফিজুর রহমানকে পশুখাদ্য সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়,এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে থলের বিড়াল।বিএলআরআই,সাভার সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, এখানে দীর্ঘদিন কর্মরত আছেন এমন কয়েকজন আছেন যারা হাফিজুর রহমানের নিকট থেকে অবৈধ সুবিধা পেয়ে থাকেন এর মধ্যে একজন আছেন যিনি অলিখিত ভাবে হাফিজুর রহমানের ব্যাবসায়ীক অংশীদার। যার ফলে যে কোনো মূল্যে বিএলআরআই, সাভারের পশুখাদ্য সরবরাহের টেন্ডার হাফিজুর’কে দেওয়া চাই।তাই, এই ফ্যাসিবাদী যুগের সিন্ডিকেট ভাংতে হলে আগে বিভিন্ন পশুর বিভিন্ন খাদ্য আলাদা আলাদা লটে বিভক্ত করে কয়েকটি দরপত্রের মাধ্যমে পশুখাদ্য সরবরাহ করতে হবে তাহলে এখানে অধিক সংখ্যক ঠিকাদার অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং ব্যাপকভাবে প্রতিযোগিতা মুলক অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়, কমবে পশুখাদ্য ক্রয় ব্যায়,সর্বপরি ভাংবে সিন্ডিকেট প্রথা।অথচ এসব দিকে দৃষ্টি না দিয়ে কর্তারা সদা ব্যাস্ত কি ভাবে সিন্ডিকেট তথা হাফিজুর রহমানকে কাজ দেয়া যায় তাই তারা প্রতি বছর অযাচিত শর্তারোপ করে অন্যান্য সকল ঠিকাদারদের বিএলআরআই সাভারের কাজ থেকে বিরত রাখে,চলতি বছরও এক হাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারে নি।তাই, সচেতন মহলে প্রশ্ন? এভাবে আর চলবে কতো কাল,,,।এ দিকে সরকারি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে পিপিআর২০০৮আইনে জবাবদিহিতার বিধান থাকলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিরব বিএলআরআই, সাভারের কর্তাব্যক্তিরা।চলতি বছর দরপত্র কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয় এক্ষেত্রেও মানা হয়নি যথাযথ নিয়ম।নিয়ম অনুসারে পদাধিকারবলে এডি(সহকারী পরিচালক) এ কমিটির প্রধান থাকার কথা থাকলেও অদৃশ্য কলকাঠির জাদুতে প্রধান হয়েছেন ট্রান্স বাউন্ডারি এ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টার এর দপ্তর প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ,সদস্য সচিব হিসেবে আছেন প্রকিউরমেন্ট অফিসার মোঃ ফরিদ মিয়া এবং সদস্য হিসেবে আছেন সিস্টেম এনালিস্ট ইন্জিঃমোহাম্মদ লুৎফুল হক।পদাধিকারবলে কমিটি না করার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের সাথে কথা রাজি হননি এডি (অতিরিক্ত পরিচালক)ড. এবিএম মুস্তানুর রহমান।এদিকে মূল্যায়ন কমিটি যথাযথ কাজ করছে দাবী করে ড.মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ বলেন,আমরা আমাদের কাজ নিয়ম অনুযায়ী করে জমা দিয়েছি।