
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএ এর ঘুষ দুর্নীতির খবর নতুন কিছু নয়! এটা কম বেশী সকলেরই জানা।
শারমিন আক্তারঃ তবে ঘুষ দুর্নীতির এমন লাগামহীন যাত্রায় সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন মেট্রো সার্কেল-৩, ডিয়াবাড়ি,তুরাগ, উত্তরা, বিআরটিএ কার্যালয়ের পরিচালক বশির উদ্দিন তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স সহো পরীক্ষা পাশের জন্য ঘুষের টাকা বৃদ্ধি করেছেন। আসলে এমন নজির ইতিহাসে বিরল।
সরেজমিন ঘুরে প্রতিবেদন সংগ্রহ কালে মেট্রো সার্কেল-৩,(উত্তরা বিআরটিএ) এ সেবা নিতে আসা কয়েকজন লাইসেন্স সেবা গ্রহীতার সাথে কথা হয় আজকের প্রসঙ্গের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স মানেই ভুগান্তি আর টাকা। তাছাড়া দিন দিন ঘুষের টাকাও বাড়ছে। কয়েক মাস আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা পাশের জন্য ২৫শ টাকা দিলেই হতো। কিন্তু বর্তমান ‘ পরিচালক বশির উদ্দিন ২৫০০/ টাকা কে বাড়িয়ে ৩৫০০/ টাকা করেছেন। এবং পেশাদার নবায়ন পরীক্ষা পাসের জন্য আগে নেয়া হত ১৫০০/টাকা কিন্তু বর্তমানে তা ২৫০০/ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, ভুক্তভোগীদের এসব কথার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে মেট্রো সার্কেল-৩, ডিয়াবাড়ি, উত্তরা বিআরটিএ কার্যালয়ের ভিতরে অবস্থানরত বেশ কিছু দালালের সাথে কথা হয় আজকের প্রসঙ্গের প্রতিবেদকের।
এসময় কথা হয় আরেক ভুক্তভোগী পেশাদার চালকের সাথে। তিনি এসেছিলেন লাইসেন্স নবায়ন করতে। তাঁর বক্তব্য হল গত আট মাস আগে ২০৯ নং রোমের সামনে টিটু নামের একজন নিজেকে ওই রোমের কর্মকর্তা মামুন সাহেবের খুব ঘনিষট বলে পরিচয় দেয় এবং বলে ১০,০০০/ টাকা দিলে তাকে পরীক্ষায় পাস সহ যাবতীয় কাজ শেষ করে দিবেন। কিন্তু আট মাস অতিবাহিত হলেও আজ অবধি তিনি তাঁর কাজের কোনও খবর বলতে পারছেন না। এমন কি এই বিষয়ে বিভিন্ন রুমে গিয়েও কোন সদুত্তর মিলছে না ভুক্তভোগীর। অন্যদিকে টিটু নামের যে ব্যক্তিকে তিনি ১০,০০০/ টাকা দিয়েছিলেন। সেই দালাল টিটু এখন হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো কি করে দীর্ঘ সময় ধরে এই অবৈধ ঘুষ বাণিজ্য চলমান আছে? ঘুষ দুর্নীতির এই অদৃশ্য শক্তির নেপথ্যে কে বা কারা জড়িত? টিটু র মতো এরকম শত শত দালাল কি করে অফিস রুমের সামনে দাঁড়িয়ে অবাদে দালালি কার্যক্রম পরিচালনা করে? এমন সব প্রশ্নের সমাধান মেলাতে টেলিফোনে কথা হয় মেট্রো সার্কেল-৩,(উত্তরা বিআরটিএ) পরিচালক বশির উদ্দিন সাথে আজকের প্রসঙ্গের। তিনি এসব প্রশ্নের কোনটারই কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই। বরং সব সময় অন্যান্য কর্মকর্তাদের ঘাড়ে দোষ ছাপিয়ে নিজেকে নিদোষ দেখিয়েছেন তিনি।
উত্তরা বিআরটিএ কার্যালয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও এই ঘুষ দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত। এমন সত্যতা মিলেছে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা দিতে আসা সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা বোর্ডের ঘুষ বাণিজ্যের এসব টাকা কতিপয় দালালের মাধ্যমে আদায় হয়ে দিন শেষে পরীক্ষা বোর্ডের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক এর কাছে তারপর পরিচালক হাতে গড়ায়’ বলে একাধিক প্রমান মিলেছে। কিন্তু আবারো সেই একই প্রশ্ন তারপর টাকা যায় কোথায়?
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন তারপরও কেন এতো ভোগান্তি? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কি এগুলো দেখেন না?
পরবর্তী পর্বে চোখ রাখুন