
প্রভাষক পদে মাদ্রাসা ছাত্র, আয়া এখন সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক!
নুসরাত জাহান ঋতু ঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার এন ইসলামিয়াএকাডেমি কলেজে ঘুষ-জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিস্ফোরক কাহিনী ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—এখানে জাল সনদ ব্যবহার করে ২৪ জনকে অবৈধভাবে প্রভাষকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল, পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদনহীন বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে, কলেজটি যেসব বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগ দিয়েছে, সেগুলোর কোনো অনুমোদনই নেই শিক্ষা অধিদপ্তরের খাতায়। ঘুষের রেট নির্ধারিত!
তথ্য মতে, প্রতিজন প্রভাষকের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (ডিডি) কেও ৩ লাখ টাকা করে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রকাশ্যে ‘ভুয়া নিয়োগের হাট’! জালিয়াত চক্রের নেতৃত্বে কলেজ শিক্ষক! স্থানীয় সূত্র জানায়, এই চক্রের মূল হোতা চানপুর কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, তিনিই জাল সনদের মূল সরবরাহকারী।
চমকপ্রদ তথ্য: বিষয় মিলছে না যোগ্যতার সঙ্গে!
নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই পড়াশোনা করেছেন এক বিষয়ে, কিন্তু প্রভাষক হয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ে। উদাহরণ স্বরূপ:
মুহাম্মদ এনামুল কবির ইতিহাসে পড়েছেন, নিয়োগ পেয়েছেন পালি বিভাগের প্রভাষক!
মো. রহিম উদ্দিন ইসলামের ইতিহাসে শিক্ষিত, আরবি বিভাগের প্রভাষক! রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়া, মনোবিজ্ঞানে প্রভাষক! মাকসুদা বেগম সমাজকর্মে পড়াশোনা, প্রভাষক গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে! রাজন ব্যবস্থাপনায় ডিগ্রি, চারু ও কারুকলা বিভাগে প্রভাষক! রাসেল মিয়া, মাদ্রাসা ছাত্র, এখন সংগীত বিভাগের প্রভাষক! হোসনে আরা, ছিলেন আয়া, এখন সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক— নিবন্ধন ছাড়া! মিজানুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আরও অনেকে নিবন্ধনবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত। জমির দলিলেও অনিয়মঃ স্থানীয়রা জানান, কলেজটি যে জায়গায় স্থাপনের কথা ছিল দলিল অনুযায়ী, বাস্তবে তা অন্যত্র স্থাপন করা হয়েছে। জমির কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, সেখানেও রয়েছে মারাত্মক অসঙ্গতি। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াঃ তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসাইন বলেন, “অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, “সরাসরি বা সামনাসামনি কথা বললে বুঝিয়ে বলতে পারবো।”ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন,“এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।”সচেতন মহলের দাবি:এমন চাঞ্চল্যকর অনিয়ম শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নষ্ট করছে না, বরং গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন সমাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সকল দুর্নীতিবাজ ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে।