1. admin@dailydhakarcrime.com : admin :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে ‌এক অসহায় মা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী ও শাশুড়ি মিলে বা*চ্চাকে টিকা দেওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে এক লাখ টাকায় বিক্রি টঙ্গীতে ২৬ টি চোরাই মোবাইল সহ এক যুবককে আটক করেছে ডিবি পুলিশ রোটারি ক্লাব অব উত্তরা লেক ভিউ’র উদ্যোগে এবং তামিশনা গ্রুপ ও উত্তরা ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন এর সার্বিক সহযোগীতায় যৌথ ভাবে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ: সহকারী ফয়সালকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ সিন্ডিকেট, বাড়ছে জনক্ষোভ গাজীপুরের গাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল হামিদ খান ইন্তেকাল করেছেন। হাকিমপুর থানা পুলিশ কর্তৃক মাদক সহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার-৯ চাকরির নামে প্রতারণা, উত্তরায় ‘মিলেনিয়াম সিকিউরিটি সার্ভিস’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বপন ও হৃদয় এর বিরুদ্ধে টঙ্গীর জাভান হোটেলে হামলা, ‘ককটেল সদৃশ’ বিস্ফোরণে আতঙ্ক মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের খোঁজ নিলেন লাখাই উপজেলা ছাত্রদল নেতা পলাশ তালুকদার।

দেবিদ্বারে অবৈধ ড্রেজারে মাটি খনন বন্ধে প্রশাসনিক উদাসীনতাঃ সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫
  • ২৪৩ বার দেখা হয়েছে

দেবিদ্বারে অবৈধ ড্রেজারে মাটি খনন বন্ধে প্রশাসনিক উদাসীনতাঃ সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ব্যুরো চীফ (কুমিল্লা):

কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার দ্বারা মাটি খনন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতা ও দায়িত্ব অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি খননের কাজ চলমান রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্বক হুমকিসরূপ। এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলামের নিকট অসংখ্যবার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েও প্রশাসনিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন সাংবাদিক সহ সচেতন মহল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি অবৈধ ড্রেজার দ্বারা মাটি খননের কাজ বন্ধের জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ড্রেজার মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো তৎপর পদক্ষেপ নিতেও দেখা যাচ্ছে না কখনও। অবৈধ ড্রেজার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি খনন এবং বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও আশপাশের কৃষি জমির উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে ব্যহত করছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদী ভাবে নদী বা খাল-বিলের জলস্তরের ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে এবং বন্যার সম্ভাবনা বাড়বে। একজন সাংবাদিক জানান, আমি বারবার উপজেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ড্রেজার মালিকেরা বিভিন্ন ইউনিয়নে অবাধে মাটি খনন করছে এবং প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এটি পুরো উপজেলার জন্য একটি বড় সমস্যা। মো. জালাল উদ্দিন নামে অভিযোগকারী আরও একজন সাংবাদিক বলেন, দেবিদ্বার উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অশুভ যোগসাজশের কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, ভূমি অফিসে ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে রিসিপশন থেকে সাথে সাথে ড্রেজার মালিকদের ফোন করে শতর্ক করে দেওয়া হয়। এছাড়াও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর গাড়ী চালক এবং অফিস সকারী মো. সুমন মিয়া ও মো. দুলাল মিয়া সহ অনেকের সাথেই ড্রেজার মালিক ও কিছু অসাধু সাংবাদিকের গোপন সম্পর্ক থাকায় ড্রেজার মালিকগণ আগেই জেনে যায় কখন কার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। রিসিপশনে অভিযোগ জমা দিয়ে চলে আসার পর পরই অভিযোগপত্র হাওয়া হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের ধামতী গ্রামের অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন, আতিকুর রহমান, কাবুল হোসেন মেম্বার, গ্রাম পুলিশ মোশারফ হোসেন, কুড়াখাল গ্রামের সালাহ্ উদ্দিন মিয়া। রাজামেহার ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের জাকির হোসেন, মোবারক হোসেন। সুলতানপুর ইউনিয়নের বক্রিকান্দী গ্রামের আনোয়ার হোসেন, তুলা গাঁও গ্রামের আব্দুল আলিম, নয়ন মিয়া ও জুয়েল মিয়া। ইউসুফপুর ইউনিয়নের পইরাঙ্কুল গ্রামের মো. শরীফ চৌধূরী, মো. সফিক চৌধুরী, মহেশপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মেম্বার, বড় শালঘর ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের ফরিদ মিয়া, মোস্তফা হোসেন, সুবিল ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের খোরশেদ আলম ডিলার, বুড়ির পার গ্রামের আব্দুস সালাম। গুনাইঘর ইউনিয়ন উত্তরের ছেপাড়া গ্রামের শিপন মিয়া ও আঃ কাদের, উনঝুটি গ্রামের হোসেন মিয়া, বাঙ্গুরী গ্রামের আঃ কাইয়ূম মিয়া, মধু মুড়া গ্রামের বাবুল মিয়া ও ময়নাল হোসেন, ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নোয়াবগঞ্জ গ্রামের আঃ আলীম, ফতেহাবাদ গ্রামের ইসমাইল হোসেন সহ অনেকের বিরুদ্ধে লিখিত এবং মৌখিক অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার নেই, বছরের পর বছর ধরে নীরবে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা।

এজন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহ সাংবাদিক এবং সচেতন মহলের মধ্যে মারাত্বক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন যে, প্রশাসন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলাতে নায়েবরা বলেন, আমাদের নাকের ডগায় স্থানীয় প্রভাবশালী অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীরা তাদের ড্রেজারগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি, তবে এসিল্যান্ড স্যারের অনুমতি ছাড়া আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারি না।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নায়েবদের অনুমতি না দিলে ওরা যাবে না। তিনি আরও বলেন, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে হবে না, অবৈধ ড্রেজার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের কুমিল্লা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, মাটির নিচ থেকে কাঁদা বালু উত্তোলন করা হলে ভূমির উপরিভাগ ঠিক থাকলেও তলদেশের ব্যাপক জায়গা নিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে বড় বড় স্থাপনা, রাস্তাঘাট সহ ব্যাপক এলাকা দেবে যেতে পারে। এটা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি সরূপ। এছাড়াও কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হলে কৃষি জমিগুলো অকৃষিতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 ঢাকার ক্রাইম
প্রযুক্তি সহায়তায় রিহোস্ট বিডি