
টঙ্গীতে মাইশা মেডিকেলের মালিক কর্মচারী পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ ।
মোঃ পলাশ সরকার:
গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এলাকায় মাইশা জেনারেল হাসপাতাল পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে কর্মচারী মিরাজ মারধরের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী পূর্ব থানার মাছিমপুর (আবেদ আলী সরকার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা মোঃ মিরাজ শেখ (৪০) স্টেশন রোডে অবস্থিত মাইশা জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটিংয়ের কাজ করে আসছিলেন মিরাজ শেখ । হাসপাতালটির মালিক মতিউর রহমানের কাছে তার গত মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন ও কমিশন বাবদ মোট ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ভুক্তভোগী জানান, একাধিকবার পাওনা টাকা চাওয়ার পরও হাসপাতাল মালিক বিভিন্ন অজুহাত দিয়েও পরিশোধ করেননি। এতে করে তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে যান এবং সংসার চালাতে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অবশেষে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তিনি সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে তার প্রাপ্য টাকা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, টাকা চাইতেই হাসপাতালের মালিক মতিউর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহযোগী মিলে মিরাজ শেখকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মিরাজ শেখ প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। মিরাজ শেখ আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল মালিক মতিউর রহমান বিভিন্ন ধরনের মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সরকারি ভাবে ডোপ টেস্ট করলে সত্যতা প্রমাণিত হবে।
এছাড়াও মারধরের ঘটনার পর তাকে এলাকায় বসবাস করতে না দেওয়া এবং সুযোগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমতাবস্থায়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন এই মাইশা জেনােলর হাসপাতালে কয় দিন পর পর ভুল চিকিৎসা রোগী মারা যায়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মেহেদী হাসান জানান উভয় পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছেন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শ্রমিক বা কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা না দেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।