
টঙ্গীতে কৃষক দলের সভাপতি আব্বাস আলীর উপর হামলার ঘটনায় আসামি যুবদল নেতা মোমিন চিশতী গ্রেফতার।
মোঃ পলাশ সরকার:
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরে টঙ্গীতে পশ্চিম থানা এলাকায় কৃষক দল সভাপতি আব্বাস আলীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এক নম্বর আসামি মোমিন চিশতী আদালতে জামিনের জন্য হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানা কৃষক দলের সভাপতি আব্বাস আলী (৫৫)। স্থানীয়রা তাকে প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। আহত আব্বাস আলী টঙ্গী দেওড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে পরান মণ্ডল টেক এলাকায় তার উপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, মাদক ব্যবসার বিরোধিতার কারণে মোমিন চিশতী এবং তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আব্বাস আলীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আহত নেতাকে দেখতে এসেছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক ১ নং যুগ্ম আহবায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য সচিব ভি,পি আসাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, তাতি দলের পশ্চিম থানার সভাপতি সোহেল সিদ্দিকী এবং ৫৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান শিপন। রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু বলেন, আমরা কৃষক নেতা আব্বাস আলী উপর পরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী আন্দোলনে ত্যাগশীল নেতা। কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা আমাদের দাবি।
স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকায় মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে আব্বাসউদ্দিন বহুদিন ধরে হুমকির শিকার হচ্ছিলেন। এই হামলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাফিস বলেন, রোগীর শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফ হোসেন জানান,
আব্বাস আলী উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।