
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ৫ই আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক বিশাল
বিজয় র্যালী
সামছুদ্দিন জুয়েল :-
ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে অভ্যুত্থানপন্থি সকল ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন ও রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ মোঙ্গলবার
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন গাছা মেট্রো থানা, গাজীপুর মহানগর এই
বিজয় র্যালী আয়োজন করেন।
৫ই আগষ্ট বিকাল ৪ টায় গাজীপুর মহানগরীর গাছা মির্জাপুর সিএনজি স্টেশন থেকে বিজয় মিছিলটি বের হয়ে মহানগরীর বোর্ড বাজার, মালেকের বাড়ি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বোর্ড বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শেষ হয়। পরে সেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন,
বাবুল সিপাহী সভাপতি গাছা মেট্রো থানা গাজীপুর মহানগর বিএনপি, ও কামাল উদ্দিন সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাছা মেট্রো থানা গাজীপুর মহানগর বিএনপি এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গাছা থানার নেতৃবৃন্দরা।
বিজয় র্যালীতে বিভিন্ন মামলা হামলা কারা,নির্যাতিত নেতা গাজীপুর মহানগর গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যিনি তার সারাজীবন দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এই মহান নেতাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ৫ই আগষ্টে শহীদ ছাত্র জনতা সকলকে। বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করবো ইনশাআল্লাহ।
আরও বলেন আজ ৫ আগস্ট, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ঠিক গত বছরের এই দিনে হাজার হাজার শহীদ ও আহতদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট ও খুনি হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের যাঁতাকল থেকে মুক্তি পায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের বর্ষপূর্তিতে
গাছা থানা বিএনপির পক্ষ থেকে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সাহসী ছাত্র-তরুণ, শ্রমিক, শিক্ষক, শিল্পী, পেশাজীবীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই নতুন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের, যাদের রক্তে রঞ্জিত পথ ধরে এসেছে আমাদের এই মহান বিজয়। সেই সঙ্গে অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেই আহতদের; যারা মাতৃভূমির মুক্তি নিশ্চিত করতে বরণ করে নিয়েছেন চিরতরে পঙ্গুত্ব, হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে স্কুলছাত্র, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদরাসাপড়ুয়া, শিক্ষক, নারী, শ্রমিক ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কেবল ফ্যাসিস্ট ও খুনি হাসিনার পতন কিংবা ক্ষমতা হস্তান্তর ছিল না; বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে এসেও এখন পর্যন্ত জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার কিংবা বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। একই সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্রে এখনো বহাল রয়েছে বহু ফ্যাসিবাদী উপাদান, যা জুলাই অভ্যুত্থানের পরিপন্থি এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।