
গাজীপুরে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের
সাথে জিসিসি প্রশাসক
মোঃ পলাশ সরকার:
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬-কে সামনে রেখে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো: সরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আগামী দিনের বাংলাদেশ আমরা কেমন দেখতে চাই-তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে এই গণভোটের মাধ্যমেই।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুর মহানগরীর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জিসিসি প্রশাসক জানান, নির্বাচন ও গণভোটে অধিকসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ এবং সচেতনভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন, মাইকিং এবং ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে ভিডিওচিত্র প্রদর্শন। এসব কার্যক্রম সফল করতে তিনি সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটারদের নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যেকোনো অভিযোগ দ্রুত যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
সরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রশাসন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং গণমাধ্যম সমন্বিতভাবে কাজ করলে কোনো অস্থিরতা তৈরি হবে না এবং সাধারণ মানুষকে ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আর রাজপথে নামতে হবে না।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সচিব আমিন আল পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন। মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। পরে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা পৃথকভাবে সেসবের উত্তর দেন।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এই আলোচনার ফলে নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।