
উত্তরখান দক্ষিণখানে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
এ, আর, মজিদ শরিফ :
রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম শহরের নিকটবর্তী উত্তরখান দক্ষিণখান এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক, হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার গজিয়ে উঠেছে । এসব জায়গায় চলে চিকিৎসার নামে প্রতারনা। এসব প্রতিষ্ঠানে মানা হচ্ছে না সরকারি নিয়মনীতি। চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অপচিকিৎসায় বিপন্ন জীবনমান।
ঢাকার সিভিল সার্জন অফিসের নাকের ডগায় গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজি, ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল। উত্তরখান দক্ষিণখানি রয়েছে নামে বেনামে প্রায় ৫০ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক । এর অধিকাংশই অনুমোদনহীন। বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নেই। চিকিৎসাসেবার নামে দেদারসে চলছে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। অপচিকিৎসার কথা স্বীকার করে সিভিল সার্জন জনাব ডাঃ জিল্লুর রহমান দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, তিনি ওই সব অনুমোদনহীন ক্লিনিক বন্ধ করতে চান; কিন্তু পারছেন না।
সিভিল সার্জন অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উত্তরখান দক্ষিণ খান সহ তার আশেপাশে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজি, ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা। ৮ থেকে ১০ টি নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। বাকি অনেকগুলোর লাইসেন্স করা হলেও নিয়মের বেড়াজালে হয়নি নবায়ন। তার পরও চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।
এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রথমে খাজনা রসিদ, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর রিটার্ন, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা, ভ্যাট ও অনাপত্তিপত্র নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করতে হয়। পরিবেশের আবেদনের ‘মানি রিসিপ্টের কপি’ নিয়ে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করতে হয়। এই মূলে প্রথমে লাইসেন্স দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে পরে পরিবেশ অধিদপ্তর যাচাই-বাছাই করে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেয় না। ছাড়পত্র না পাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নবায়ন করতে গেলে আর নবায়ন হয় না।
দক্ষিনখান চালাবনে আর্ক মেডিকেল, ট্রান্স মিটার মোরে অবস্থিত সবুজ বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং উত্তরখান মৈয়নারটকে স্টার মেডিকেল, আটিপাড়া বাজারে অবস্থিত ফাস্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,আটিপাড়া এপিএস গার্মেন্টস সংলগ্ন কেয়ার প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং উত্তরখান দক্ষিণখানে নাম সর্বস্ব আরো কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে এ ধরনের ড্রাগনস্টিক সেন্টারে বেশ কয়েকবার র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা হলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব অভিযানের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত ভুল চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দিয়ে মারাত্মক ক্ষতি করে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ।
আর্ক হাসপাতালের মালিক মোবারকের সাথে কথা হলে তার ওখানে চিকিৎসা নেয়া একজন ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে তাকে প্রকৃত চিকিৎসা না দিয়ে অপচিকিৎসা করাতে তার জীবন সন্নিকটে চলে আসলে তিনি পরবর্তীতে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়, তখন মোবারক সাহেব বলেন তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি জানাবো।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, এক সময় লাইসেন্স নেওয়া থাকলেও পরে আর নবায়ন করা হয়নি। তার পরও দেদারসে চলছে ব্যবসা।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজি, ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্যাথলজিস্ট, সনোলজিস্ট ও রেডিওগ্রাফার পদে জনবল থাকা আবশ্যক। সে ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে নিয়োগ দেখালেও বাস্তবিক অর্থে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই সব ধরনের জনবল নেই। তবুও চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও তিন শিফটে ডিপ্লোমা সনদধারী নার্স থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ হাসপাতালে নার্সের পরিবতে শিক্ষার্থী ও অভিজ্ঞ আয়া দিয়ে চলছে কার্যক্রম।
এ ছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেসব পরীক্ষা করা হয়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সরঞ্জামাদিই নেই। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে লাইসেন্সের আওতায় অথবা আবেদন বাতিল করে জনসাধারণকে সঠিক চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা হোক।’