
অপহরনের আসামী জামিনে এসে বাদিকে হত্যার হুমকি!
বিশেষ প্রতিবেদন : রাজধানীর দক্ষিনখান থানার টিআইসি কলোনি ফায়দাবাদের সামনে থেকে গত ২রা ফেব্রুয়ারী ২০২৫ইং তারিখ বিকেল ৪টার দিকে ১৬ বছরের ছেলে ওয়াসিমুল বারী রাফিদকে অপহরন করা হয়েছিল। অপহরনের পর রাফিদকে ফায়দাবাদের গোয়ালটেক আদম আলী মার্কেট এর পাশে শফিকের নির্মাণাধীন ভবনের ৮তলায় তুলে নিয়ে যায় এবং রাফিদের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে তার জমজ ভাই রহিতকে ফোন করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে এবং পুলিশের কোন সহযোগীতা নিতে নিষেধ করে অপরাধীরা অন্যথায় তার জমজ ভাই রাফিদকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় অপহরনকারীরা। এসময় অপহৃত রাফিদ তার ভাইকে মুঠোফোনে জানায়, তাকে ছোটন গ্রুপের সন্ত্রসীরা অপহরন করে নিয়ে যাচ্ছে।
একই দিনে সন্ধ্যায় রাফিদের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে রাফিদের মাকে ফোন করে রাফিদকে মারধর করা হয় এবং তার কান্না ও চিৎকারের শব্দ শুনিয়ে রাফিদের মাকে ৬ লক্ষ টাকা নিয়ে দক্ষিনখান থানার কোর্টবাড়ি রেললাইনে একা আসতে বলে। পরে তাদের দেয়া ঠিকানায় টাকা নিয়ে গেলেও অপহরনকারীরা সেখানে আসেনি। রাফিদ অসুস্থ হয়ে পরেছে দ্রুত টাকা পাঠাতে হবে বলে রাফিদের মায়ের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৪০০ এবং ৪০০০ টাকা নেয় অপহরনকারীরা। পরবর্তীতে দ্রুত ৬ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দেয়ার জন্য রাফিদের মাকে চাপ দিতে থাকে অপহরনকারীরা।
পরবর্তীতে ২ দিন পরে কৌশলে অপহরনকারীদের হাত থেকে পালিয়ে এসে শারীরিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় রাফিদ এবং থানায় গিয়ে অপহরনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে অপহরনকারীদের প্রধান ফায়দাবাদ গোয়ালটেক এর মনির ওরফে জামাই মনিরের ছেলে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রসী ফাহিম ওরফে গিট্টু ফাহিমের পরিচালনায় রাশেদ, সম্রাট, অন্তর, শিপন সহ আরও অজ্ঞাত ৪/৫ জন মিলে রাফিদকে অপহরন করে। উল্লেখিত সকলেই এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, গিট্টু ফাহিম ও তার কিশোর গ্যাং এর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে আছে। অপহরন মামলায় জেল থেকে জামিনে এসে রাফিরে পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্যও হুমকি দিচ্ছে গিট্টু ফাহিম ও তার সন্ত্রাসী দল। বর্তমানে রাফিদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।