
কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: প্রকৌশলী ও ঠিকাদার সোহেলের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত
প্রতিবেদক সাবিয়াঃ
কুমিল্লার জনস্বাস্থ্য প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের তীর প্রকৌশলী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী তুষার মোহন সাদু খা, প্রকল্প পরিচালক হাসানুজ্জামান এবং এফএ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ ফারুক আহমেদ সোহেল—যিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি—টেন্ডার জালিয়াতি, সরকারি অর্থ লোপাট এবং অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর ভিত্তিতে দুদক গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সোহেলকে আগামী ৩ মে ঢাকায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলন করেছেন। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়া, অযোগ্য ঠিকাদার নিয়োগ এবং জনস্বাস্থ্য সেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী জানান, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও লুটপাটের মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, এ বিষয়ে দুদকের কাছে প্রাথমিক প্রমাণও রয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, দুদক আইন ২০২৪ এর ধারা ২২ এবং দুদক বিধিমালা ২০০৭ এর বিধি ৮/১১ অনুযায়ী উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ ইমরান আকনকে সদস্য করে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, কুমিল্লা জুড়ে জনস্বাস্থ্য প্রকল্পে টেন্ডার কারসাজি, অসম্পূর্ণ কাজের বিল উত্তোলন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।