
হালুয়াঘাটে বসত বাড়িতে দুর্বৃত্তদের আগুন ও চুরি: প্রাণে রক্ষা পেল স্ত্রী-সন্তান
, নিজস্ব সংবাদদাতা হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে আগুন লাগিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মামুন মিয়ার স্ত্রী ও শিশুকন্যা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. মামুন মিয়া ঢাকায় থেকে ব্যবসা করেন এবং তাঁর দুই পুত্র ঢাকায় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার নিষিদ্ধপুর গ্রামের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান বসবাস করেন। গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘুমাতে যান।
পরদিন ২১ আগস্ট তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঘরের ভেতর মানুষের উপস্থিতির শব্দ পেয়ে বাদীর স্ত্রীর ঘুম ভাঙে এবং তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় ঘরে কেরোসিনের গন্ধ পেয়ে তিনি ঘরের উত্তর দিকের বেড়ায় আগুন জ্বলতে দেখেন। আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে ১ নম্বর বিবাদী আবুল কাশেম (৫৫) ও ২ নম্বর বিবাদী নজরুল মিয়াকে (৩৮) ঘরে দেখতে পেয়ে তিনি ডাক চিৎকার শুরু করেন।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ঘরের বেশ কিছু অংশ ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পরে দেখা যায়, ঘরের উত্তর পাশে সিঁদ কাটা রয়েছে এবং সেই সিঁদ কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করেছিল।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরের ট্রাঙ্ক ভেঙে নগদ ২,৮৫,০০০ (দুই লক্ষ পঁচাশি হাজার) টাকা, ২ আনা ওজনের কানের একজোড়া বল রিং, ৪ ভরি ওজনের একজোড়া নুপুর এবং ২ ভরি ওজনের একটি রূপার গলার চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ৩৬,০০০ টাকা) চুরি করে নিয়ে যায়। বিবাদীরা প্রবাসীর স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যেই ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছিল বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে ভুক্তভুগী মামুন মিয়া বাদি হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।