
খুলনার আলোচিত এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা-ধর্ষণ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি ২৮ জুন
প্রতিবেদক মহোনাঃ
খুলনার বহুল আলোচিত পারভীন সুলতানা ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা এবং ধর্ষণ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি আগামী ২৮ জুন হাইকোর্টের ২৯ নম্বর বিশেষ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলার পেপারবুকের ওপর গত ১০ কার্যদিবস ধরে টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলাটি দ্রুত শুনানির পর্যায়ে আনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা মহানগরীর লবণচোরা থানার বুড়ো মৌলভী (রহ.) দরগাপাড়া এলাকার ‘ঢাকাইয়া হাউস’-এ সংঘবদ্ধভাবে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর তাকে এবং তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে গুমের চেষ্টা চালানো হয়। নিহত পারভীন সুলতানা এক্সিম ব্যাংকের খুলনা কালীবাড়ি শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াস চৌধুরীর ছেলে ও নিহত পারভিনের একমাত্র ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন হয়।
পরবর্তীতে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক (বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ, খুলনা) মোহা. মহিদুজ্জামান রায়ে পাঁচ আসামিকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলায়ও পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।মৃত্যু দন্ড আসামীরা হলো লবনচোরা বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকার আব্দুল জলিলের দুই ছেলে পিটিল ও শরিফুল, একই এলাকার মৃত শিকদারের ছেলে পলাশ, অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ ও লিটন। আসামিরা সকলের কারাগারে আছে। এই মামলাটি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা বিচার আদালিত ও হাইকোর্টে বাদিকে আইনগত সহযোগিতা দিয়ে এসেছে।
বর্তমানে মামলাটি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের দায়ের করা আপিলসহ হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৮ জুনের শুনানি মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের বিচারপ্রত্যাশী মানুষ আশা করছেন, উচ্চ আদালতে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ মামলার নিষ্পত্তি হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।