1. admin@dailydhakarcrime.com : admin :
সাতক্ষীরার উপকূলে বিরল শাক-লতার ব্যতিক্রমী মিলন মেলা - ঢাকার ক্রাইম
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় টঙ্গীতে ছাত্র দলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। পূবাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় জান্নাতুল মাওয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মিলাদ ,দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত। কক্সবাজার জেলায় নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান গাজীপুর টঙ্গীতে ৫ দিনের জোড় ইজতেমায় আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু। গাজীপুরে যুবদল নেতা কাজী মাসুদের বাবার কুলখানি উপলক্ষে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত দৈনিকস্বাধীনসংবাদপত্রিকার২২তমোপ্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০২৫ ব্যাপক আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। গাজীপুর টঙ্গীতে হামিম গ্রুপে হঠাৎ অসুস্থত অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হাসপাতালে ভর্তি। পূবাইলের মেঘডুবী পশ্চিম পাড়া যুব উন্নয়ন ক্লাবের উদ্যোগে ৯ম ডে- নাইট ফ্রিজ কাপ ফাইনাল মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত। পূবাইলে হারবাইদ খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মি. তাপস এস কস্তা। স্বরূপকাঠিতে অবৈধ ইটভাটা—নেই অধিদপ্তরের কোন অভিযান, নেই কার্যকর পদক্ষেপ 

সাতক্ষীরার উপকূলে বিরল শাক-লতার ব্যতিক্রমী মিলন মেলা

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৮ বার দেখা হয়েছে

সাতক্ষীরার উপকূলে বিরল শাক-লতার ব্যতিক্রমী মিলন মেলা

মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরার উপকূলের লোনা জল,ঘূর্ণিঝড় আর পরিবেশ ঝুঁকিতে হারিয়ে যেতে বসেছে বহু দেশজল শাক-লতা ও ভেষজ উদ্ভিদ। সেই হারানো সবুজ ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরতে শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী শাক-লতা ও ভেষজ মেলা। বারসিকের আয়োজনে চন্ডিপুর দুর্গামন্দির মাঠে অনুষ্ঠিত এ মেলায় এক মঞ্চে স্থান পেয়েছে ১৩১ প্রজাতির বিরল,বিলুপ্ত প্রায় ও অচাষকৃত শাক-লতা-পাতা যা উপকূলের মানুষের ঐতিহ্য,চিকিৎসা জ্ঞান ও খাদ্য সংস্কৃতির এক মূল্যবান দলিল হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমতে থাকে। বৃদ্ধ,নারী,শিশু,কিশোর সব বয়সী মানুষ ছুটে আসে এই অনন্য আয়োজন দেখতে। কারও হাতে খাতা-কলম,কেউ ছবি তুলছেন,কেউ আবার প্রতিটি শাকের নাম,ব্যবহার ও ঔষধিগুণ জানতে আগ্রহী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্টল থেকে স্টলে। লোনা মাটির এই উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব শাক লতা আর আগের মতো দেখা যায় না,সে সবের এত বিস্তৃত সংগ্রহ দেখে দর্শণার্থী ও গবেষকরাও বিস্মিত।
১৩১ প্রজাতির শাক-লতা দর্শণার্থীদের বিস্ময়ে অভিভূত করেছে। মেলায় প্রদর্শিত শাক লতার মধ্যে ছিল, হলুদের ফুল, মুক্ত ঝুরি, নিম পাতা, উলো গাছ, কেশে, ষষ্ঠী বট, খুত কৃমি, কাল কচু, ব্রাহ্মী শাক, সাদা অপরাজিতা, পিপুল শাক, থানকুনি, অর্জুন ছাল, তেলা কচু, হেলানচো, সবুজ শাপলা, সাদা শাপলা, ঢেপ, ঘেটকুল, জার্মানি লতা, ওড়ল পাতা, আলু পাতা, শান্তি শাক, পাথর কুচি, বন টমেটো, গিমে শাক, শিউলি পাতা, বন মুলা, হাতিসূর, ঘুম শাক, হেন্না গাছ, ননিয়া শাক, বিলম্ব, জবা ফুল পাতা, কুলে খাড়া, দূবা, কেশরাজ, মাধবী লতা, নোনা শাক, ভুই ওগড়া, পেপুল শাক, খুত কেউড়ে, কলমি শাক, ডুমুর, বৌনুটি, আকন্দ, নীলকণ্ঠ, তুলসি, সাদা তুলসি, আদা বরন, স্বর্ণলতা, বাসক পাতা, হাতিশুর, কালো কচু শাক, কসম গাছ, উলটকম্বল, কানসিরা, রাঙা কুচ, সেতা শাক, সিশ আকন্দ, সজিনা পাতা, কাটানোটে শাক, নোনা গড় গড়ে, অড়ল পাতা, আমরুল শাক, ঘোড়া শান্তি শাক, পেপরুল শাক, রাখাল চটকে, চির বসন্ত, কুলফি শাক, বামনহাটি, ধৃতকুমারী, রক্ত কেউটে, অর্জুন গাছ, বন ঢেঁড়স, বন তুলসি, মিশরি পাতা, কলাবতী, মোচা, কলার থোড়, শান্তি শাক, উলু গাছ, হেকড়া, শিয়ালকাঁটা, তিন বেগুন, মেরি সূর্যমুখী, ঈশানমূল, সাদা বদি, মান কচু, ধুতরা পাতা, কেয়া পাতা, নীল অপরাজিতা, মাটি ফোড়া শাক, মান্দার গাছ, বনপাটরি, অ্যালোভেরা, শষ্টি বট, বেতো শাক, শালুক, বউ নুটি, গিমের শাক, দূর্বা, আর ছোট গাছ, মনসা সেজি, দুধে শাক, নাগমণি, কালমেঘ পাতা, পাথরকুচি ও বাকোস পাতা ছিল উল্লেখ যোগ্য।
এত বিস্তৃত সংগ্রহ এক জায়গায় দেখে মেলার দর্শণার্থীরা বলেন,এ গুলো আমাদের শৈশবের খাবার ছিল,এখন আর অনেকটাই নেই। আজ আবার দেখলাম মনে হলো পুরনো দিনে ফিরে গেলাম।
অনেকে জানান,এ গুলোর পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এমন মেলা নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহীদের মতে,মেলা এক নতুন পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি বলেন, উপকূলীয় লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন ও বারবার ঘূর্ণি ঝড়ে বহু দেশজ উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে। এমন আয়োজন মানুষকে সংরক্ষণে উৎসাহিত করে এবং পরিবেশ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অংশ গ্রহণকারীরাও জানান,পূর্ব পুরুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বহু উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তপ্রায়। তাই এ গুলোকে চাষাবাদে ফিরিয়ে আনা জরুরী। ১২টি স্টলের প্রতিযোগিতায় ১১৫ প্রজাতি প্রদর্শন করে প্রথম লতিকা রানী। মেলায় স্থানীয় নারীদের নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতা মূলক প্রদর্শনীতে ১১৫ প্রকার শাক প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন লতিকা রানী, দ্বিতীয় হন শম্পা রানী, তৃতীয় স্থান অর্জন করেন কল্পনা রানী।
অন্যান্যদের মধ্যেও তুমুল প্রতিযোগিতা ছিল। ইতি গাইন দেখান ১০৯ প্রজাতি, নুপুর রানী ১০২, যমুনা গাইন ৯৫, মালতি রানী ৯৩, তৃষ্ণা-কনিকা জুটি ৯০, শিখা রানী ৮০, জোসনা বালা ৫৫ এবং সুন্দরী রানী দেখান ১০০ প্রজাতি। দেশজ জ্ঞান সংরক্ষণে বারসিকের এই মেলা বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানান আয়োজকরা।
বারসিকের জানান,এই মেলা শুধু প্রদর্শনী নয় স্থানীয় জ্ঞান সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা। তরুণ প্রজন্মকে দেশজ উদ্ভিদের প্রতি আগ্রহী করা। এসব লক্ষ্য পূরণেই এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। চন্ডি পুরের এই সবুজ আয়োজন শুধু স্মৃতি নয় উপকূলের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দর্শণার্থীদের ভাষায় এ মেলা যত দিন থাকবে,উপকূলের স্থানীয় উদ্ভিদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 ঢাকার ক্রাইম
প্রযুক্তি সহায়তায় রিহোস্ট বিডি

You cannot copy content of this page