গাজীপুর টঙ্গীতে হামিম গ্রুপে হঠাৎ অসুস্থত অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হাসপাতালে ভর্তি।
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের টঙ্গীর মিল গেট এলাকায় হামিম গ্রুপের কারখানায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লাঞ্চ বিরতির পর হঠাৎ করেই একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে শতাধিক শ্রমিক অচেতন, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও মুখ দিয়ে লালা বের হওয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। অসুস্থতার খবর শুনে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরকার শাহিনুর ইসলাম রনি দ্রুত ছুটে আসেন এবং শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠে যে কয়েক মিনিটের মধ্যে কারখানার ভেতর বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং শ্রমিকরা একে অপরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছুটোছুটি শুরু করেন। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে দেখা দেয় তীব্র চাপ। পর্যাপ্ত সিট না থাকায় অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শহরের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালেও পাঠানো হয়। হাসপাতালে একযোগে এত রোগী আসায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. রোমানা আক্তার বলেন, দুপুরের পর হঠাৎ করেই অসংখ্য শ্রমিককে অচেতন অথবা অর্ধচেতন অবস্থায় আনা হচ্ছে। কারো মুখ দিয়ে লালা বেরোচ্ছে, কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। আমরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে অসুস্থ হওয়ার কারণ এখনও নির্ণয় করতে পারিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে হামিম গ্রুপের প্রধান ফটকের সামনে এবং টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শত শত শ্রমিক, স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় জমেছে। বিভিন্ন জনের মুখে আতঙ্ক খাবারে বিষক্রিয়া, কারখানার ভেতর গ্যাস ছড়িয়ে পড়া, কিংবা কোনো অজানা রাসায়নিকের সংস্পর্শ নানান সম্ভাবনা ঘুরছে সবার মনে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারছে না।শ্রমিকদের অনেকেই জানান, লাঞ্চ শেষে কয়েকজন প্রথমে মাথা ঘোরা অনুভব করেন। পরে তারা একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খুব দ্রুত সংখ্যাটি বাড়তে থাকলে পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ ভয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে যান, কেউ দৌড়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, শিল্প পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় কাউন্সিল প্রতিনিধিরা হাসপাতালে এবং কারখানা এলাকায় উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। শ্রমিকরা কীভাবে অসুস্থ হলো, এর পেছনে কোনো দুর্ঘটনা, খাদ্যদূষণ বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না সবকিছুই আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা করছি, পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রশাসনের একাধিক সংস্থা ইতোমধ্যে পানি পরীক্ষা, কারখানার পরিবেশ পরীক্ষা এবং অসুস্থ শ্রমিকদের শারীরিক মূল্যায়ন শুরু করেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক রয়ে গেছে। অসুস্থ শ্রমিকদের কেউ কেউ এখনো হাসপাতালে ভর্তি, আবার অনেককে চিকিৎসা শেষে বাসায় পাঠানো হয়েছে। পুরো এলাকায় বর্তমানে শোক, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রধান সম্পাদক : বরুন আচার্য, ০১৮২৩৯৫১৫৪২ , উপদেষ্টাঃ আনোয়ার হোসেন , সম্পাদক/ প্রকাশক: মোঃ কামরুল ইসলাম , বার্তা সম্পাদকঃ মুনীর হোসেন চৌধুরী । সম্পাদকীয় কার্য্যালয়ঃ সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০।। মোবাইল: ০১৯২৮৮২৯৮৬৩
© All rights reserved © 2024 ঢাকার ক্রাইমYou cannot copy content of this page