রাজধানীর মিরপুর ভূমি অফিসের গরিব সাহ বিরুদ্ধে ব্যাপকঅনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
তাহার কাছে তথ্য চাইলে তিনি বলেন আমি মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাব ও প্রেসক্লাবকে মাসোয়ারা দেই আপনি তাদের সাথে দেখা করেন এ অফিসে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গরিব শাহ থাকলেও নেই তার নির্ধারিত কার্যক্ষমতা। পদে পদে ঘুষ-দুর্নীতির কারণে এখানে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।মিরপুর ভূমি অফিসের অধীনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, গরিব সাহ সহ অফিসের অফিস সহকারী, পিয়ন-দালাল সবাই ‘ঘুষ বাণিজ্যের’ সঙ্গে কমবেশি জড়িত। অবৈধ লেনদেনকে ঘিরে এই অফিসকেন্দ্রিক শক্তিশালী দালালচক্রও গড়ে উঠেছে।গত কয়েক দিন মিরপুরভূমি অফিস ঘুরে জমির মালিক ও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাম প্রস্তাব (নামজারি), মিস মামলা, খাজনা দাখিল থেকে শুরু করে সব কিছুতেই এখানে ঘুষ লেনদেন হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকটা প্রকাশ্যেই ঘুষের অঙ্ক নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। ঘুষ ছাড়া প্রায় কোনো কাজই হচ্ছে না সেখানে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, অফিস নিয়মে প্রত্যেক ধাপে ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না। ঘুষ লেনদেনে সহযোগিতা করে দালালচক্র। ভূমি অফিস ঘিরে তৎপর এই দালালচক্রে সদস্য সংখ্যাঅনেক জন। তাদের কাজ সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা। বিষয়টি জানতে চাইলে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন, তিনি নিয়মিত অফিস করলেও আছেন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। অনলাইনে আবেদনের পর আবার মূল কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে হয়। তখন টাকা না দিলে অনলাইনে ঝুলে থাকে ফাইল।মিরপুরের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ভূমি অফিসে খাজনা দিতে চাইলে তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি কেটেছেন আর খাজনা জমা দেখানো হয়েছে ৮১২ টাকা।ওই দালাল চক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমি নামজারির জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর তদন্ত করে ভূমি অফিস থেকে নাম প্রস্তাব পাঠানো হয় উপজেলা ভূমি অফিসে। কিন্তু এই নাম প্রস্তাব পাঠানোর জন্য জমি অনুপাতে ১ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। বাসিন্দা আক্কাস উদ্দিন বলেন, ভূমি অফিসে তার একটি মিস মামলার তদন্ত এলে তহশিলদার ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। আক্কাস অভিযোগ করেন, দাবি করা টাকা না দেওয়ায় মামলায় তার প্রতিপক্ষের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছেন তিনি। এভাবে সেবা নিতে আসা অনেক জমির মালিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।তবে ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে তারাবলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে এই অফিসের কেউ কোনো টাকা নেন না।জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ডিজিটালাইজড কাজ না জানার কারণে মিস মামলার তদন্তকাজ তহশিলদারকে দেওয়া হয়। তহশিলদারের ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, এর আগেও অনেক ভুক্তভোগীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবেবিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।
উপদেষ্টাঃ আনোয়ার হোসেন , সম্পাদক/ প্রকাশক: মোঃ কামরুল ইসলাম , বার্তা সম্পাদকঃ মুনীর হোসেন চৌধুরী । সম্পাদকীয় কার্য্যালয়ঃ সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০।। মোবাইল: ০১৯২৮৮২৯৮৬৩
© All rights reserved © 2024 ঢাকার ক্রাইম