ক্রাইম রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলার নাসিরনগর থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হাজী আলম মিয়া হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, ভিকটিমের ছেলে বাদী মোঃ মাহমুদুল হাসান নিজেই হত্যাকারী, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ উদ্ধার করল পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
আসামী মোঃ মাহমুদুল হাসান(২১) এর বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী- মোঃ মাহমুদুল হাসান(২১), পিতা-মৃত হাজী মোঃ আলম মিয়া, মাতা-মৃত মোছাঃ বিলকিস বেগম, সাং-ফান্দাউক (মুন্সিপাড়া), থানা-নাসিরনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সূত্রঃ নাসিরনগর থানার মামলা নং-০৫, তারিখঃ ০৬/০৯/২০২৫, ধারাঃ ৪৫৭/৩৮০/৩০২/৩৪ পেনাল কোড।
বাদী মাহমুদুল হাসান তার এজাহারে দাবি করেছেন যে, গত ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে অজ্ঞাতনামা আসামীরা তার বাবার বাড়ির টিনের চালা কেটে এবং পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা বাদীর বাবা ভিকটিম হাজী আলম মিয়াকে মোটা লোহার পাইপ
দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এরপর হত্যাকারীরা বাদীর আলমারি থেকে বাদীর স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার (মূল্য আনুমানিক ২,৫০,০০০/- টাকা) চুরি করে নিয়ে যায়। এজাহারে তিনি তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা এবং তার পূর্বের স্বামী মমিনকে হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্দেহ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ঘটনার সময় সিলেটে ছিলেন এবং তার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিচেনায় পিবিআই প্রধান জনাব মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনায় এবং পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমা এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ বেলাল উদ্দিন এর নেতৃত্বে ছায়া তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। হত্যাকাণ্ডটি ০৩ সেপ্টেম্বর ঘটলেও, মাহমুদুল হাসান মামলা দায়ের করেন তিন দিন পর, অর্থাৎ ০৬ সেপ্টেম্বর। বাদীর দাবি ছিল, তিনি দাফন-কাফনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু এই বিলম্বের আসল কারণ ছিল সাজানো গল্পটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য অপচেষ্টা মাত্র। ভিকটিম আলম খুনের ঠিক আগের দিন তার ভাগিনা বশিরের বাসায় পারিবারিক বৈঠকে ২য় স্ত্রী আমেনাকে আট আনা স্বর্ণ, তিন লাখ টাকা, চার লাখ টাকার ব্যাংক জমা, দুই শতক ভিটে এবং দুই কানি ফসলি জমি দিতে চাইলে মাহমুদুল হাসান এর তীব্র বিরোধিতা করেন। ২য় স্ত্রী আমেনাকে ঢাকা হতে আনার জন্য ভিকটিম প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে যার ফলে মাহমুদুল হাসান অনেক ক্ষিপ্ত ছিল। সরেজমিনে প্রাপ্ত হত্যাকাণ্ডের সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতীয়মান হয় যে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এজাহারে উল্লিখিত আমেনা ও মমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, সমস্ত তথ্য, যেমন-সম্পত্তির লোভ, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মাহমুদুল হাসানের অস্বাভাবিক গতিবিধি, মোবাইল চুরির ঘটনা গোপন করা এবং সাজানো চুরির গল্প—এই সবকিছুই আসামী মাহমুদুল হাসানের দিকে সন্দেহ ঘণীভূত করে। গত ১০/০৯/২০২৫ তারিখ আনুমানিক ১৭:৩০ ঘটিকায় আসামি মোঃ মাহমুদুল হাসানকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার পিতা হাজী আলম মিয়াকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আসামী মোঃ মাহমুদুল হাসান এর দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্ভরের ০৫ তারিখ বাদীর মা মারা যায়। বাদীর ধারনা ভিকটিম বাদীর মায়ের সুচিকিৎসা করেন নাই এবং বাদীর মা জীবিত থাকাবস্থায় ভিকটিম পুনরায় বিয়ে করতে চেয়েছিল। ভিকটিম বাদীকে প্রায় সময় অকত্য ভাষায় গালমন্দ করত। এছাড়াও ভিকটিম একাধিকবার বাদীকে তার স্ত্রীর সামনে চড় মেরেছিল। ২য় স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করে সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার চিন্তা করায় বাদী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার বাবাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি সিলেট যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং বাড়ির পেছনের দরজা খোলা রাখেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে রাত আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকায় সেই খোলা পিছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং মাচার ওপর লুকিয়ে থাকেন। এরপর তিনি সুকৌশলে তার বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসার জন্য চাপ দেন। ভিকটিম আলম মিয়া বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়লে, রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকায় আসামি মাহমুদ লোহার পাইপ দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পরে লোহার পাইপটি বাড়ির সামনের পুকুরে ফেলে দেয়।
আজ সকাল ১১ঃ০০ ঘটিকায় আসামি মোঃ মাহমুদুল হাসানের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩ ফুট লম্বা ও ১.৫ ইঞ্চি প্রস্থের লোহার পাইপটি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ মাহমুদুল হাসানকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলম এর আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামী মোঃ মাহমুদুল হাসান তার পিতা ভিকটিম আলম মিয়া হত্যাকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে ফোঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তি মূলেক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাঃ পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ) মোঃ বেলাল মিয়া জানান
মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে।
উপদেষ্টাঃ আনোয়ার হোসেন , সম্পাদক/ প্রকাশক: মোঃ কামরুল ইসলাম , বার্তা সম্পাদকঃ মুনীর হোসেন চৌধুরী । সম্পাদকীয় কার্য্যালয়ঃ সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০।। মোবাইল: ০১৯২৮৮২৯৮৬৩
© All rights reserved © 2024 ঢাকার ক্রাইম